দেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা টেকনাফের সুপারির খ্যাতি দেশজোড়া। তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেই সুপারি নিয়ে গাওয়া আঞ্চলিক গান। গত এক দশক ধরে এখানকার সুপারি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। তবে, সুপারির এই অর্থনৈতিক মূল্যের কাছে প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকেছে ‘গাছের অপূর্ব শোভা’।
টেকনাফে পথে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের কোথাও একপাশে, কোথাও দুইপাশে; আবার কোথাও পাহাড়ের ঢালজুড়ে গড়ে উঠেছে সুপারি বাগানের নিবিড় সবুজ। পর্যটন শহরের ইনানী সৈকত, হিমছড়ি কিংবা উখিয়ার পাতোয়ারটেক— আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোয় রূপের পালক হয়ে আছে এই সুপারি বাগান। সৈকতে ঝাউবিথি আর ঘন বন জঙ্গলের গাছগাছালি— উচ্চতায় সবাইকে ছাড়িয়ে সুপারি গাছ উঁকি মারে আকাশে। কবিগুরুর ‘তালগাছ’ কবিতার অনুরণনই যেন টেকনাফের পথে পথে ছড়িয়েছে তারা। ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে সুপারি গাছগুলো তাদের অবসরযাপনের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হিমছড়ির পাহাড়ি ঢালে সবুজের কতই না আয়োজন! তারই মাঝে অন্যরকম এক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি সুপারি গাছ। যেন চারপাশের সবুজকে ছাপিয়ে আকাশের দিকে মাথা তুলেছে তারা— সরু কাণ্ডে দীর্ঘ দেহ, মাথার উপরে পাতার মুকুট। ভাদ্রের মাঝামাঝি এখন গাছে গাছে ঝুলছে সুপারি ফল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, মাটির বুক চিরে এক সঙ্গে অনেকগুলো সবুজরেখা উঠে গেছে আকাশ ছোঁয়ার প্রত্যাশায়। অনাবিল এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। তাই পথ চলতে চলতে হঠাৎ থেমে যায় পর্যটকের গাড়ি। ক্যামেরা উঠে আসে হাতে। কেউ দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, কেউ আবার গাছের সারির দিকে তাকিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কলতলী মোড় থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুপারি বাগান যোগ করেছে নতুন মাত্রা; যেখানে কৃষি, প্রকৃতি আর পর্যটনের সৌন্দর্য মিলেমিশে রচিত হয়েছে অনন্য দৃশ্যপট।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















