ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের চাঁদপুরে বিদেশগামীদের ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনাসহ ৪ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার হলে লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পথচলা শুরু সিরাজগঞ্জের ০৩ নং বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো আঃ মালেক খাঁন দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী

শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার হলে লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম সোমবার জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসকে বলেছেন, বর্তমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লেবাননের একটি জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন।

বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীতে (ইউনিফিল) বর্তমানে ৪৬টি দেশের প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষী রয়েছে।

এ বাহিনী ১৯৭৮ সাল থেকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি বাফার বা মধ্যবর্তী শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু মার্কিন চাপের মুখে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত বছর এই বাহিনীর মেয়াদ চলতি বছরের শেষে বন্ধ করার পক্ষে ভোট দেয়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সালাম ইউনিফিল-পরবর্তী পর্যায়ে দেশটির দক্ষিণে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

নওয়াফ সালাম বলেন, এটি এমনভাবে হওয়া উচিত যা পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন তৈরি ও লিয়াজোঁর কাজগুলো অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করবে, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে এবং সমগ্র ভূখণ্ড জুড়ে লেবানন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করবে।

ইউনিফিলের আসন্ন বিদায় এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইসরাইল সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) গভীর একটি স্ব-ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ তাদের সেনা মোতায়েন রেখেছে।

হিজবুল্লাহ তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরানের সমর্থনে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে গত মার্চ মাসে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এরপর ইসরাইল সেখানে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণ শুরু করে।

গত সপ্তাহে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এএফপি-কে বলেছিলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা শূন্যতা রোধ করতে লেবানন একটি নতুন ইউরোপীয় বা অন্য কোনো বাহিনী চায়। তবে ‘সবচেয়ে ভালো ও সর্বোত্তম বিকল্প হলো ইউনিফিলের মেয়াদ বাড়ানো।’

ইউনিফিলের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য একটি নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি গত সপ্তাহে প্যারিসে জোসেফ আউন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর মধ্যকার একটি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতেও ছিল।

এদিকে ফ্রান্স ও ইতালি জানিয়েছে যে তারা ইউনিফিলের বিদায়ের পর একটি বহুজাতিক জোট গঠন করতে চায়।

জুন মাসের একটি প্রতিবেদনে গুতেরেসও উল্লেখ করেন, ইউনিফিলের মিশন শেষ হওয়ার পরেও সেখানে শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজন হবে।

সালাম গুতেরেসকে আরও জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এখনও প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি এই মানবিক সংকটে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের

শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার হলে লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম সোমবার জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসকে বলেছেন, বর্তমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লেবাননের একটি জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন।

বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীতে (ইউনিফিল) বর্তমানে ৪৬টি দেশের প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষী রয়েছে।

এ বাহিনী ১৯৭৮ সাল থেকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি বাফার বা মধ্যবর্তী শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু মার্কিন চাপের মুখে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত বছর এই বাহিনীর মেয়াদ চলতি বছরের শেষে বন্ধ করার পক্ষে ভোট দেয়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সালাম ইউনিফিল-পরবর্তী পর্যায়ে দেশটির দক্ষিণে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

নওয়াফ সালাম বলেন, এটি এমনভাবে হওয়া উচিত যা পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন তৈরি ও লিয়াজোঁর কাজগুলো অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করবে, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে এবং সমগ্র ভূখণ্ড জুড়ে লেবানন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করবে।

ইউনিফিলের আসন্ন বিদায় এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইসরাইল সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) গভীর একটি স্ব-ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ তাদের সেনা মোতায়েন রেখেছে।

হিজবুল্লাহ তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরানের সমর্থনে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে গত মার্চ মাসে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এরপর ইসরাইল সেখানে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণ শুরু করে।

গত সপ্তাহে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এএফপি-কে বলেছিলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা শূন্যতা রোধ করতে লেবানন একটি নতুন ইউরোপীয় বা অন্য কোনো বাহিনী চায়। তবে ‘সবচেয়ে ভালো ও সর্বোত্তম বিকল্প হলো ইউনিফিলের মেয়াদ বাড়ানো।’

ইউনিফিলের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য একটি নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি গত সপ্তাহে প্যারিসে জোসেফ আউন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর মধ্যকার একটি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতেও ছিল।

এদিকে ফ্রান্স ও ইতালি জানিয়েছে যে তারা ইউনিফিলের বিদায়ের পর একটি বহুজাতিক জোট গঠন করতে চায়।

জুন মাসের একটি প্রতিবেদনে গুতেরেসও উল্লেখ করেন, ইউনিফিলের মিশন শেষ হওয়ার পরেও সেখানে শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজন হবে।

সালাম গুতেরেসকে আরও জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এখনও প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি এই মানবিক সংকটে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান।


প্রিন্ট