ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট চালু করতে যাচ্ছে বিসিবি শাস্তির কবলে মার্শ-হেডরা এমসিজে ক্লাব-এর যাত্রা শুরু আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ল ১০.৫৩ শতাংশ হেয়ার প্রসেসিং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন: আতিয়ার সভাপতি ও তুকার সম্পাদক নির্বাচিত মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর-লুটপাট, শাস্তি চাইলেন জামায়াত আমির ঢাবিতে দিনব্যাপী ফিলোসফি গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন খুলনা বিভাগে একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু পলাশবাড়ীতে মোটর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন দ্বন্দ্বের মীমাংসা বৈঠকে সমঝোতা, পূর্বের মতো সড়কে চলবে ‘বকুল এন্টারপ্রাইজ’ জিয়াউরকে সভাপতি ও রেদুয়ানকে সাধারন সম্পাদক করে শান্তগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি গঠন

আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ল ১০.৫৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট-এই দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

গত অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের গড় মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসে ভাগ করলে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের গড় রপ্তানি আয় বেশি।

তবে প্রথম দুই মাসের এই প্রবৃদ্ধি সমানভাবে আসেনি। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছিল। পরের মাস আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে।

এ বিষয় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিকে ইতিবাচক রেখেছে। তবে বছরের শুরুতে দুই মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থবছরের প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না; পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটির বাজারে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বছরের বাকি সময়ে অর্ডারের প্রবাহ, বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর রপ্তানির ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক (ওভেন ও নিট পণ্য) রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে যা ছিল ৪৬ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ গত বছরের জুৱাইয়ের তুলনায় এবারের জুলাইয়ে এই বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে আগস্ট মাসে গত বছরের একই মাসের ৪২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের চেয়ে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলারে উন্নতি হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট চালু করতে যাচ্ছে বিসিবি

আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ল ১০.৫৩ শতাংশ

আপডেট টাইম : ০৮:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট-এই দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

গত অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের গড় মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসে ভাগ করলে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের গড় রপ্তানি আয় বেশি।

তবে প্রথম দুই মাসের এই প্রবৃদ্ধি সমানভাবে আসেনি। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছিল। পরের মাস আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে।

এ বিষয় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিকে ইতিবাচক রেখেছে। তবে বছরের শুরুতে দুই মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থবছরের প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না; পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটির বাজারে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বছরের বাকি সময়ে অর্ডারের প্রবাহ, বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর রপ্তানির ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক (ওভেন ও নিট পণ্য) রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে যা ছিল ৪৬ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ গত বছরের জুৱাইয়ের তুলনায় এবারের জুলাইয়ে এই বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে আগস্ট মাসে গত বছরের একই মাসের ৪২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের চেয়ে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলারে উন্নতি হয়েছে।


প্রিন্ট