কলম্বিয়ায় গত সোমবার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া ক্যালির আবাসিক এলাকা টোরেস দেল লিমোনারে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিহতদের স্বজনদের জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। পরে এসব জিনিস শোকাহত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী মার্লেন নিনো তাঁর বোন ডরিসকে হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর বোনের কিছু ছবি উদ্ধার করে দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বোনের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি ছবি দেখিয়ে মার্লেন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন স্মৃতিগুলোই রয়ে গেছে। এগুলোর আবেগগত মূল্য অনেক বেশি।’
তিনি বলেন, তাঁর অনুভূতিতে একই সঙ্গে ‘আনন্দ, দুঃখ ও নস্টালজিয়া’ কাজ করছে।
আরও জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা যখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে, তখন ভবনটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ধ্বংসস্তূপ থেকে বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধারের কাজ তদারক করছে।
মার্লেনের বোন ডরিস নিনোর বয়স ছিল ৭২ বছর। তিনি একাই থাকতেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই তাঁর ভবনটি ধসে পড়ে।
ডরিসের কয়েকজন ভাগনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে সরাতে একপর্যায়ে তারা রান্নাঘরের ধ্বংসাবশেষের পাশে ডরিসের মরদেহ খুঁজে পান।
মার্লেন বলেন, ‘যখন আমরা তাঁকে খুঁজে পাই, তখন তিনি মারা গেছেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁর কোনো কষ্ট হয়নি।’
কলম্বিয়ার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে নিহত প্রায় ৩০০ মানুষের একজন ডরিস নিনো।
এখনো ১০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে অনেক ভবনে উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পর ক্লান্তি, উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ স্বেচ্ছাসেবক এবং নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
মানুষকে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে কলম্বিয়া জাতীয় পর্যায়ে একটি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে। অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞরাও সেখানে গেছেন।
লিমোনারে স্বেচ্ছাসেবী মনোবিজ্ঞানী মানুয়েলা বারিওস বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র মানুষকে তাদের প্রিয়জনের ‘স্মৃতি ধরে রাখতে’ সাহায্য করছে।
৩৮ বছর বয়সী এই মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘তারা যখন কোনো একটি জিনিস খুঁজে পান, তখন তাদের মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। সেটিই আমার মনে থেকে যায়।’
চোখের পানি মুছতে মুছতে মার্লেন নিনো বলেন, বোনের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে এবং তিনি নিজেকে অসহায় মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত তাঁর মরদেহ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু অনেকেই তাঁদের স্বজনের মরদেহও খুঁজে পাননি। বিষয়টি আমার কাছে আরও বেশি কষ্টের।’
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 

























