যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান দেশটির সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়েছে। তবে একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়ায় সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এর আগে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারও দরপতনে শেষ হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসে সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার চাঙা হয়েছিল। এর ফলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে শ্রমবাজারের গতি কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি।
বাজারের এই আচরণকে অনেকেই ‘খারাপ খবরই ভালো খবর’ হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ অর্থনীতি দুর্বল হলে ফেড সুদের হার বাড়াবে না—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যকেও ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। তবে শুক্রবারের তথ্য মার্কিন অর্থনীতির শক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে বিশ্লেষকেরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ কমেছে, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল। একই সময়ে ভোক্তা আস্থাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে মার্কিন পরিবারগুলো ব্যয় কমিয়েছে এবং ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন আশঙ্কাও বেড়েছে।
ফরেক্স ডটকম-এর বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, মাসের শুরুতে প্রকাশিত কর্মসংস্থান তথ্যের পর মোটামুটি প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল খুচরা বিক্রি এবং কমে যাওয়া ভোক্তা আস্থার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘সব তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন অর্থনীতির গতি কিছুটা কমে আসতে পারে। এতে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা আরও জোরালো হচ্ছে।’
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এখন বাজারে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৫০:৫০।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, হোম ডিপো ও টার্গেটের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের দিকে। এসব প্রতিবেদন থেকে মার্কিন ভোক্তাদের আর্থিক অবস্থা ও ব্যয়ের প্রবণতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা আপাতত কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো জুলাইয়ের বড় দরপতনের পর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
হংকংয়ের বাজারে প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, টেনসেন্ট ও জেডি ডটকমের শেয়ারের উত্থানে সূচক বেড়েছে। সাংহাই ও তাইপের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
টোকিওর বাজার প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়ার শেয়ার ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সফটব্যাংক, অ্যাডভানটেস্ট ও টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার বেড়েছে ১.৩ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের চেয়ে কম হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও বাজারে এর বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
সিডনি, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার শেয়ারবাজার সামান্য কমেছে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর শুক্রবার অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের যে দরপতন হয়েছিল, সোমবারও তা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























