গ্রিসের একটি দ্বীপে দাবানলে দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে। স্পেনে আগুন নেভানোর সময় এক সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আর জার্মানির সীমান্তবর্তী এলাকায় বেলজিয়াম রেকর্ড দাবানল মোকাবিলা করছে। রোববার ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
ঐতিহাসিকভাবে উষ্ণ গ্রীষ্মের কারণে ইউরোপে তীব্র তাপমাত্রা ও অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। ইতোমধ্যে এ গ্রীষ্মে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি:
-গ্রিসে দুইজনের প্রাণহানি-
দেশটির দমকল বাহিনী জানায়, এথেন্সের কাছে গ্রিসের সালামিস দ্বীপে দুটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। জনপ্রিয় সৈকতগুলো থেকে কয়েক শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এক কোস্টগার্ড মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘কোস্টগার্ডের টহল নৌকা ও অন্যান্য নৌযানে করে ৫৭০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
-স্পেনে মৃত্যু-
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজে সহায়তা করার সময় রোববার এক স্প্যানিশ সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে অঞ্চলটির নেতা জানিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
সোমবার আগুনটি ছড়িয়ে পড়ে। এটি এক হাজার বছরের পুরোনো একটি মঠের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে ফ্রান্স থেকে অতিরিক্ত জনবল পাঠানোর কথা রয়েছে।
-পর্তুগালে দাবানল-
পর্তুগালে কয়েকটি দাবানল মোকাবিলা করছেন কয়েক শত দমকলকর্মী।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, স্পেন সীমান্তের কাছে দিন নামের গ্রামের কাছে একটি দাবানলে একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে পাঁচজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হন।
দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা এএনইপিসি জানায়, স্পেন সীমান্তের কাছে আরও কয়েকটি দাবানল মোকাবিলা করছেন দমকলকর্মীরা। এর মধ্যে রয়েছে বোটিকাস ও শাভেজ এলাকার আগুন।
-বেলজিয়ামের আগুন জার্মান শহরের জন্য হুমকি-
জার্মানির কাছে দুর্গম একটি এলাকায় বেলজিয়ামের ইতিহাসের আধুনিক সময়ে সবচেয়ে বড় দাবানল মোকাবিলায় পানি ছিটানো বিমান ও কৃষকদের ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। আগুনের হুমকি বাড়তে থাকায় সীমান্তবর্তী একটি শহর আংশিকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
দুর্গম একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকায় আগুনটি জ্বলছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সামরিক হেলিকপ্টারের পাশাপাশি মাটিতে ট্রাক্টর ব্যবহার করে পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
আগুনটির সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। শুক্রবার ৮০ হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুন রোববার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে।
-ক্রোয়েশিয়ায় চারজন গ্রেফতার-
অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কয়েকটির সূত্রপাতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ।
খরা ও তীব্র গরমে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময় পাইনবন ও জলপাইবাগান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
-ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে-
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লাঁদ বিভাগে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া আগুনটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তিন দিন ধরে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানোর পর আগুনটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা জিল ক্লাভরুল বলেন, পরিস্থিতি ‘অনুকূলভাবে’ এগোচ্ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় আগুনের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার বিকেলে তা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও বেড়েছে।
স্থানীয় প্রিফেক্ট জানান, আগুনের কারণে সরিয়ে নেওয়া ৬৫০ জনের মধ্যে প্রথম দলটি রোববার সন্ধ্যায় নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























