রাজশাহী মহানগর ও জেলার ৯ উপজেলার ৪৮৯টি মণ্ডপে জোরে সোরে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে জেলার মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুধুই কাজ আর কাজ। এরইমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শেষ মুহূর্তে চলছে শিল্পীদের মনের মাধুরী মিশিয়ে রংয়ের কাজ।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবছর সরকার রাজশাহীর ৪৮৯ পূজা মণ্ডপে বিতরণের জন্য ২৮৯ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার বাসস’কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগর এলাকার ৮৫টি ও ৯ উপজেলার ৪০৪টি পূজা মণ্ডপের প্রত্যেকটির জন্য ৬শ’ কেজি করে মোট ২৮৯ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ববরাদ্দের চাল এসে পৌছেঁছে। আরও ৭টির জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেটি আসলে বিতরণ করা হবে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ডপগুলোর মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ববরাদ্দের চাল হস্তান্তর করা হবে। তারা আবার মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।
৪৮৯টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে রাজশাহী মহানগর এলাকায় ৮৫টি, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৪২টি, তানোর উপজেলায় ৫৯টি, পবা উপজেলায় ২৩টি, মোহনপুর উপজেলায় ২৫টি, বাগমারা উপজেলায় ৮৬টি, দুর্গাপুর উপজেলায় ২৪টি, চারঘাট উপজেলায় ৪২টি, বাঘা উপজেলায় ৪৮টি এবং পুঠিয়া উপজেলায় ৫৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
গতবছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর ৪৭২টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়েছে। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়ে হয়েছে ৪৮৯টিতে। এ বছর জেলায় ১৭টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আরও বলেন, গত বছরের থেকে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। যে কয়টির বরাদ্দ এখনও আসেনি, সেগুলোর বরাদ্দ এলে আমরা সব একসাথে পৌঁছে দেবো।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা উদযাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা আমরা দ্রুতই পৌঁছে দেব। সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সুষ্ঠ পরিবেশে ও ভালোভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আশা করছি, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা উদযাপন করতে পারবেন।
এদিকে, রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ। বাঁশ, খড় আর কাদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একইসঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এরআগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ।
রাজশাহী মহাগরীর কৃষ্ণ মন্দিরে মণ্ডপ তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগর কৃষ্ণ বাসস’কে বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু রং করা বাকি।
সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের জন্য ইতোমধ্যেই রাজশাহী জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়। তবে পূজা উদযাপন পরিষদ ও প্রত্যেকটি মণ্ডপ কমিটিকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম বাসস’কে বলেন, আমাদের রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার অধীনস্ত এলাকায় ১০৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে বসেছি। তারাও কিছু স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। যেসব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে সেগুলোতে ইতোমধ্যেই পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। পূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করতে যত ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি সনাতন ধর্মালম্বীরা সুষ্ঠ পরিবেশে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























