‘খেলাধুলা সবার জন্য, খেলাধুলা কোন বয়স মানেনা। শিশু থেকে শুরু করে ৬০ উর্ধ্ব সবাই যাতে মাঠে যেতে পারে সেই উদ্দেশ্যে সকলকে একটি নিরাপদ পরিবেশ দেয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের সময় একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা একটি খেলার মাঠ তৈরী করতে চাই। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২৭টি জেলা থেকে ৪০৩টি মাঠের তথ্য পেয়েছি। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার মাঠ তৈরী করে, সেই মাঠে তরুণ-যুবক-৬০ উর্ধ্ব সকলের জন্য একটি পরিবেশ তৈরী করে দেয়া। যাতে সবাই খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারে।
আজ এখানে টেবিল টেনিস উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই নতুন কুঁড়ির দ্বিতীয় আসরে আমরা এবার টেবিল টেনিস অন্তর্ভুক্ত করেছি। ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে টেবিল টেনিস দল গঠন করা হবে। প্রায় ৫০৩টি উপজেলায় নতুন কুঁড়ি দ্বিতীয় আসর শুরু হচ্ছে। নভেম্বরে খুলনা থেকে একযোগে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব ভূঁইয়া, প্রধান তথ্য কর্মকতা সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
শুধু ফুটবল-ক্রিকেট নয়, টেবিলে টেনিসের মত ভলিবল, বাস্কেটবল, এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, মার্শাল আর্ট সবগুলো খেলাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূলে সর্বোচ্চ জায়গায় ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান। শুধুমাত্র ফুটবল-ক্রিকেটকে ফোকাস করে নয়, অন্যান্য খেলাতেও আমাদের ভাল করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ইভেন্টে আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করছে খেলাধুলাকে কিভাবে পেশা হিসেবে কাজে লাগানো যায়। সে লক্ষ্যে আমরা ক্রীড়া ভাতা, ক্রীড়া কার্ড প্রদান করছি। নতুন কুর্ঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসর শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় আসর শুরুর অপেক্ষায়। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসকে আমরা বাৎসরিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি। যাতে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে আমরা এই আসর শুরু করতে পারি এবং এই খেলাটিকে সাত-আট মাস ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে চাই। ৪৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করে এই আসর আয়োজিত হবে। পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে অন্যান্য সময় যাতে আমরা শিশুদের মাঠে রাখতে পারি। এতে করে আমাদের যে মূল লক্ষ্য সুস্থ্য জাতি গড়ে তোলা, ডিভাইসের হাত থেকে কিছুটা সময় সন্তানদের দূরে রাখা, মাদকমুক্ত সমাজ- এসবই সম্ভব হবে।
আগামী শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণী থেকে খেলাধুলা নামক একটি নতুন পাঠ্যপুস্তক সংযোজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী অবহিত করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে এই পাঠ্যবই তৈরীর জন্য সহযোগিতা করেছে। এর মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণী থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে নতুন একটি উদ্যোমে গড়ে তুলতে চাই। এরপর ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে পরবর্তী শ্রেণীগুলোতে এই পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রতিটি উপজেলায় একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। শুধুমাত্র উপজেলা পর্যায়ে নয়, জেলা পর্যায়ে স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পন রয়েছে। যদিও বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে যে অর্থনৈতিক মন্দা তাতে আপাতত সেই অবকাঠামোগুলো কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে স্পোর্টস ভিলেজের মাধ্যমে স্পোর্টসের নতুন একটি উদ্যোম তৈরী হবে। এছাড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এ্যাথলেটদের জন্যও একটি প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণী থেকে যেহেতু ক্রীড়াকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বছরব্যাপী যাতে শিক্ষা ক্যারিকুলামের সাথে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে শিশুরা সবসময়ই খেলাধুলার মধ্যে থাকতে পারবে। স্কুল এমন একটি স্থান যেখানে পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাকে যদি বাধ্যতামূলক করা হয় তাহলে সামাজিকভাবে একটি গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ইতোমধ্যেই কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। প্রতিটি ইভেন্টে বিষয়ভিত্তিক কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে যদি প্রাথমিকভাবে ১০জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নেয়া হয় তবে বিশাল একটি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। সাথে সাথে বিভিন্ন ক্রীড়ায় একটি পরিবর্তনও আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুদের মাঠমুখী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। যা ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। দীর্ঘদিন আমরা একটি দাবি জানিয়ে আসছিলাম, ক্রীড়াবিমুখ শিশুদের যেন আবারও মাঠমুখী করতে পারি। সেই দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছে।’
‘খেলাধুলা শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই বিষয়টি আমরা বরাবরই উপেক্ষা করে আসছি। শিশুর বিকাশের মূল ভিত্তি খেলাধুলা। কিন্তু এখন মাঠে খুব একটা শিশুদের দেখা যায়না। পড়াশুনার চাপে তাদের সেই সময়ও নেই। তার উপর প্রযুক্তি আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে মাঠ বিমুখ করে তুলেছে।’
বাসস প্রধান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠ তৈরীর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আমাদের শিশুদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গড়ে তুলতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।’
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















