ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধামইরহাটে হালিমার হ/ত্যাকান্ডের ৪ আ/সামি গ্রে/ফতার সত্য ও জনস্বার্থের অঙ্গীকার নিয়ে পিরোজপুরে জনপথ প্রতিদিনের আত্মপ্রকাশ হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু রোনালদোর আচরণে ম্যানইউ হতাশ হয়েছিল, অভিযোগ টেন হাগের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, হামলা করতে পারে ইসরাইল চট্টগ্রামে ৩ লাখ ২০ হাজার পিস ই/য়া/বাসহ মা/দক কারবারি আ/টক, ট্রাক জ/ব্দ চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শার্শায় ১৮টি স্বর্ণের বার ও মোটরসাইকেল সহ চোরাচালানকারী গ্রে/প্তার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: আমিনুল হক বিজয়া দশমীতে নারীরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে

সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, হামলা করতে পারে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেল আবিব। এমনটা হলে ইসরাইল ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করছেন ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ইসরাইলে সারাদেশে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন করা হয়। ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। কোনো একক দল এই সংখ্যার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

সম্ভাব্য চারটি পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

১. জোট সরকার

নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক দলগুলো ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করবে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী যে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলেরই হবেন, তা নয়। বরং সংসদে প্রয়োজনীয় আসনের সমর্থন আদায়ে যার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে।

জোট গঠনের আলোচনা দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। দলগুলো নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দর-কষাকষি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে অস্থিতিশীল সরকার গঠনের আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ৫৮ দিন সময় লাগে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে পরিচিত নেতা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। দুই পক্ষই প্রায় ৫০টি থেকে ৫২টি করে আসন পেতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে জরিপে দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় সমান। ফলে জোট গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও ১০টি বা তার কাছাকাছি আসন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকে কঠিন হিসাব-নিকাশ করতে হবে। ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলত্যাগ ও জোটের সমীকরণে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের বহু নজির রয়েছে।

এ ছাড়া দেশটিতে নতুন দুটি ডানপন্থী দল রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, দল দুটি সংসদে প্রবেশের ন্যূনতম ভোটের সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তারা সংসদে আসন পেলে দুই প্রধান শিবিরের যেকোনো একটির পক্ষে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

২. সংখ্যালঘু সরকার

কোনো শিবিরই ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অন্য সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থন নিতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের। তাদের অধিকাংশই নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আরব-ইসরায়েলি দুটি নির্বাচনী জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—মোট ১২ থেকে ১৪টি আসন পেতে পারে। অতীতে সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখা মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম জানায়, তারা আইজেনকোটের শিবিরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে— এমন যেকোনো জোটকে ‘সমর্থনের নিরাপত্তাবলয়’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে বিরোধী শিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে এমন সম্ভাবনার কথা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। কারণ, ইহুদি ভোটারদের একটি বড় অংশ ইসরাইলি আরবদের সঙ্গে যেকোনো ধরণের জোটের বিরোধী।

এতে অবশ্য নেতানিয়াহু তার নির্বাচনী প্রচারে আইজেনকোটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনা থেকে বিরত থাকেননি। তিনি প্রচারে স্লোগান দিয়েছেন, ‘হয় ডানপন্থীরা, নয়তো ফিলিস্তিন।’

৩. জাতীয় ঐক্যের সরকার

ইসরাইলের চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে অবাস্তব মনে হতে পারে। তবে তাত্ত্বিকভাবে এমন সরকার গঠিত হলে তুলনামূলক কম কট্টর সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রায়ই জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমন সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহু তার উসকানিমূলক কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের পাশাপাশি অতি-অর্থোডক্স দলগুলোকে বাদ দিয়ে আইজেনকোটের সঙ্গে জোট করতে পারেন। নিরাপত্তার অনেক বিষয়ে আইজেনকোটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মতের মিল রয়েছে।

তবে এ ধরনের বৃহৎ জোটে আরব দলগুলোকে রাখা হবে না।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নতুন নির্বাচনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনকে পছন্দ করবেন ৫৫ শতাংশ ইসরাইলি।

এ ধরণের সরকার গঠনের সাম্প্রতিক নজিরও রয়েছে। ২০২০ সালে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজ ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তিতে পৌঁছান। আইজেনকোটের মতো গান্তজও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। তিনি মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। ওই চুক্তিতে পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

তবে এক বছরের মধ্যেই তাদের অংশীদারত্ব ভেঙে পড়ে। এর ফলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর অচলাবস্থা তৈরি হলে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে একসঙ্গে আনতে পর্দার আড়ালে কাজ করছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এর মাধ্যমে ২০২০ সালের মতো ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তবে এ পরিস্থিতির বিরোধিতা উভয় পক্ষ থেকেই আসতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের আপত্তি প্রবল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে দেখছে এবং তার ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

৪. অচলাবস্থা ও নতুন নির্বাচন

কোনো প্রার্থী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলকে আবারও নির্বাচনে যেতে হবে।

রাজনৈতিক নেতারা স্থায়ী জোট গঠন করতে না পারায় ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে দেশটিতে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী সাধারণত জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। তবে নতুন নির্বাচন অবিলম্বে ঘোষণা ঠেকানোর জন্য অন্য কিছু প্রক্রিয়াগত পথও রয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ধামইরহাটে হালিমার হ/ত্যাকান্ডের ৪ আ/সামি গ্রে/ফতার

সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, হামলা করতে পারে ইসরাইল

আপডেট টাইম : ০৫:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেল আবিব। এমনটা হলে ইসরাইল ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করছেন ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ইসরাইলে সারাদেশে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন করা হয়। ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। কোনো একক দল এই সংখ্যার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

সম্ভাব্য চারটি পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

১. জোট সরকার

নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক দলগুলো ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করবে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী যে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলেরই হবেন, তা নয়। বরং সংসদে প্রয়োজনীয় আসনের সমর্থন আদায়ে যার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে।

জোট গঠনের আলোচনা দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। দলগুলো নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দর-কষাকষি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে অস্থিতিশীল সরকার গঠনের আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ৫৮ দিন সময় লাগে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে পরিচিত নেতা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। দুই পক্ষই প্রায় ৫০টি থেকে ৫২টি করে আসন পেতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে জরিপে দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় সমান। ফলে জোট গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও ১০টি বা তার কাছাকাছি আসন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকে কঠিন হিসাব-নিকাশ করতে হবে। ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলত্যাগ ও জোটের সমীকরণে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের বহু নজির রয়েছে।

এ ছাড়া দেশটিতে নতুন দুটি ডানপন্থী দল রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, দল দুটি সংসদে প্রবেশের ন্যূনতম ভোটের সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তারা সংসদে আসন পেলে দুই প্রধান শিবিরের যেকোনো একটির পক্ষে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

২. সংখ্যালঘু সরকার

কোনো শিবিরই ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অন্য সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থন নিতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের। তাদের অধিকাংশই নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আরব-ইসরায়েলি দুটি নির্বাচনী জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—মোট ১২ থেকে ১৪টি আসন পেতে পারে। অতীতে সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখা মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম জানায়, তারা আইজেনকোটের শিবিরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে— এমন যেকোনো জোটকে ‘সমর্থনের নিরাপত্তাবলয়’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে বিরোধী শিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে এমন সম্ভাবনার কথা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। কারণ, ইহুদি ভোটারদের একটি বড় অংশ ইসরাইলি আরবদের সঙ্গে যেকোনো ধরণের জোটের বিরোধী।

এতে অবশ্য নেতানিয়াহু তার নির্বাচনী প্রচারে আইজেনকোটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনা থেকে বিরত থাকেননি। তিনি প্রচারে স্লোগান দিয়েছেন, ‘হয় ডানপন্থীরা, নয়তো ফিলিস্তিন।’

৩. জাতীয় ঐক্যের সরকার

ইসরাইলের চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে অবাস্তব মনে হতে পারে। তবে তাত্ত্বিকভাবে এমন সরকার গঠিত হলে তুলনামূলক কম কট্টর সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রায়ই জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমন সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহু তার উসকানিমূলক কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের পাশাপাশি অতি-অর্থোডক্স দলগুলোকে বাদ দিয়ে আইজেনকোটের সঙ্গে জোট করতে পারেন। নিরাপত্তার অনেক বিষয়ে আইজেনকোটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মতের মিল রয়েছে।

তবে এ ধরনের বৃহৎ জোটে আরব দলগুলোকে রাখা হবে না।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নতুন নির্বাচনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনকে পছন্দ করবেন ৫৫ শতাংশ ইসরাইলি।

এ ধরণের সরকার গঠনের সাম্প্রতিক নজিরও রয়েছে। ২০২০ সালে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজ ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তিতে পৌঁছান। আইজেনকোটের মতো গান্তজও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। তিনি মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। ওই চুক্তিতে পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

তবে এক বছরের মধ্যেই তাদের অংশীদারত্ব ভেঙে পড়ে। এর ফলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর অচলাবস্থা তৈরি হলে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে একসঙ্গে আনতে পর্দার আড়ালে কাজ করছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এর মাধ্যমে ২০২০ সালের মতো ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তবে এ পরিস্থিতির বিরোধিতা উভয় পক্ষ থেকেই আসতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের আপত্তি প্রবল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে দেখছে এবং তার ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

৪. অচলাবস্থা ও নতুন নির্বাচন

কোনো প্রার্থী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলকে আবারও নির্বাচনে যেতে হবে।

রাজনৈতিক নেতারা স্থায়ী জোট গঠন করতে না পারায় ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে দেশটিতে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী সাধারণত জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। তবে নতুন নির্বাচন অবিলম্বে ঘোষণা ঠেকানোর জন্য অন্য কিছু প্রক্রিয়াগত পথও রয়েছে।


প্রিন্ট