ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দিনাজপুরের বিরামপুরে ৪ নং দিওড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কৃষি জমিতে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু দীর্ঘ ৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল শুরু কাল এআই ব্যবসা বাড়াতে নতুন শেয়ার ছাড়ছে মেটা, নজরে মিউজ সুরা বালাদে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে মালয়েশিয়ায় একটি অফিস থেকে ২০টির বেশি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার আ.লীগ ও একটি গুপ্ত দল যৌথভাবে চক্রান্ত করছে: রিজভী জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী আজ সাইবার সিকিউরিটিসহ সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

কৃষি জমিতে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ

 জেলার সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪শ’ একর কৃষি জমি দখল করে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে আজ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় একটি ভেকু জব্দ এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষি জমি দখল করেছে। এসব জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে জমির মালিকদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, এসব জমিতে তাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করেছে। আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর জমি রয়েছে। সেখানে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বাসস’কে বলেন, প্রায় ৪শ’ একর জমিতে একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। এরআগে প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বাসস’কে বলেন, নদীর ওপার থেকে এসে একটি চক্র আবাদি ও সরকারি খাস জমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষে তারা আবারও একই কাজে ফিরে আসে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমি কমে যাবে। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অভিযানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, যুবদলের নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরের বিরামপুরে ৪ নং দিওড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

কৃষি জমিতে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৩:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 জেলার সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪শ’ একর কৃষি জমি দখল করে মাছ চাষের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে আজ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় একটি ভেকু জব্দ এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষি জমি দখল করেছে। এসব জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে জমির মালিকদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, এসব জমিতে তাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করেছে। আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর জমি রয়েছে। সেখানে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বাসস’কে বলেন, প্রায় ৪শ’ একর জমিতে একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। এরআগে প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বাসস’কে বলেন, নদীর ওপার থেকে এসে একটি চক্র আবাদি ও সরকারি খাস জমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষে তারা আবারও একই কাজে ফিরে আসে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমি কমে যাবে। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অভিযানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, যুবদলের নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট