হাফসা আক্তার : রাজধানী উত্তরার ১১ নং সেক্টরের ৭ তলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুনের ধৌয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে স্বামী -স্ত্রী ও তাদের ২ বছরের শিশু সন্তানসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নারী পুরুষ শিশুসহ আহত হয়েছে আরো ১০/১২জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন ভবনের ছাদের দরজায় তালা মারা থাকায় বাঁচার চেষ্টা করে ও মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে তারা, অনেকে আগুন লাগার সাথে সাথে নিছে নেমে জীবন রক্ষা করেছে। শুক্রবার বন্ধের দিনে বাসা বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনার সুত্র নিয়ে জনমনে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সিআইডি টিম,পিবিআই টিম ছাড়াও এসবি, এনএসআইসহ তদন্তে নেমেছে অনেকে। আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবনের আসপাশের লোকজন বলছে ভিন্ন কথা। কেউ কেউ বলছেন বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে, কেউ বলছে গ্যাসের রাইজার বিস্ফোরণে আগুন লেগেছে। আশপাশের বাড়ী ওয়ালাদের অনেকে বলছে ভবন মালিকের রুমের আই পিএস ব্রাস্ট হয়ে আগুন লেগেছে,সেই আগুনের কারণে বৈদ্যুতিক শটসারকিটে আগুন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মতামত আসলেও আগুনের সুত্রপাত বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এখনো কোন ধরনের মতামত পাওয়া যায় নি।
এ ছাড়াও তদন্তকারী অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে ও আগুনের সুত্রপাত জানা যায় নি।
এ সব বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,
আগুনে পুড়ে নিহতদের খবরাখবর নিতে ও জানাযায় অংশ নিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির মনোনীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান।
এ সময় এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যাওয়ার আগেই ভবন নির্মানের সাথে জড়িত সকল ডিপার্টমেন্টকে সুদূর প্রসারি ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজউকের উচিত ভবনের প্ল্যান ও ফায়ার এক্সিটসহ সব কিছু দেখে অ্যাকুপানসি সার্টিফিকেট দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে হবে পাশাপাশি তাদেরকে আরো আধুনিক যন্ত্রপাতি দিতে হবে।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন,
আমরা জানতে পেরেছি আগুনে পুরে মারা যাওয়ার আগে অনেকে বাঁচার জন্য ভবনের ছাদে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছাদে তালা মারা থাকার কারণে কেউ ছাদে উঠতে পারেনি।
তারা অভিযোগ তুলে বলেন, এ সব বিষয়ে ভবন মালিকদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
শুক্রবার ১৬-০১-২৬ ইং তারিখ সকাল ০৭.৫০ ঘটিকায় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন উত্তরা ১১ নং সেক্টরস্থ ১৮ নং রোডের ৭ তলা বিশিষ্ট ৩৪ নং ভবনে আগুন ধরে। এ সময় উক্ত বিল্ডিং এ বসবাসকারীগন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ০৪ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ ও লোকজন উদ্ধারে কাজ করেন। আগুনের ধৌয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃতরা হলো ১। ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮)পিতা- কাজী,খোরশেদুল আলম
মাতা- ফেরদৌস আরা
সাং- কাজীবাড়ি, নানুয়া দিঘি,পশ্চিমপাড়া,থানা- কোতোয়ালী,জেলা- কুমিল্লা।
এ/পি- সেক্টর ১১, রোড নম্বর ১৮, বাসা নম্বর ৩৪, থানা- উত্তরা পশ্চিম, ঢাকা, ২। মোঃ হারিছ(৫২)
পিতা- হাফিজ উদ্দিন, মাতা-সাহারা খাতুন সাং-দড়িপাচাশি,থানা- ঈশ্বরগঞ্জ
জেলা- ময়মনসিংহ,এ/পি- সেক্টর ১১, রোড নম্বর ১৮, বসানগর ৩৪, উত্তরে পশ্চিম থানা, ঢাকা,৩। মোঃ রাহাব(১৭),পিতা- হারিছ উদ্দিন
মাতা- রিনা বেগম,সাং- দড়িপাচাশি,থানা- ঈশ্বরগঞ্জ
জেলা- ময়মনসিংহ,এ/পি- সেক্টর ১১, রোড নম্বর ১৮, বাসা নম্বর ৩৪, উত্তরা পশ্চিম থানা, ঢাকাগন
মারা গেছে- কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। এ ছাড়া আফরোজা আক্তার পিতা- আমির বকস মিয়া, মাতা- সেলিনা আমিন, স্বামী- কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী, সাং- সিকারকান্দি, থানা- মতলব উত্তর, জেলা- চাদপুর।
মারা গেছে- ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে,৫। মো: রিশান (২.৫), পিতা : ফজলে রাব্বি রিজভী
মাতা : আফরোজা সুলতানা
সাং- নানুয়া দিঘীর পাড় কাজী বাড়ী, থানা- সদর, জেলা- কুমিল্লা
,ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে ও ৬। রোদেলা আক্তার (১৪)
পিতা-শহিদুল,ইসলাম,মাতা- শিউলি আক্তার সাং-দড়িপচাশী,থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা : ময়মনসিংহ লুবানা হাসপাতালে মারা যায়। থানা পুলিশ জানায়, প্রতিটা লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,আগুনে পুরে মৃতদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরো বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।