নাসির উদ্দিন গাজীপুর :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নতুন নির্মিত সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় ৩০ মিটার সড়ক ভেঙে কয়েক ফুট পর্যন্ত ভূমি ধসের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধসে পড়া অংশে দ্রুত মাটি ও বালু ফেলে আপাতত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগ কমানো যায়।
তিনি আরও বলেন, ধসের কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে বুয়েট বা ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক, প্রকল্পের পিডি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী থাকবেন। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হবে।
সোহেল হাসান জানান, সড়ক নির্মাণ কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসিএলকে দেওয়া হয়েছিল। এখনো তাদের কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি এবং জামানতও সিটি কর্পোরেশনের কাছে রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমেই নেওয়া হবে।
সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজ নম্বর–১২ এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্যাকেজ নম্বর–৫ এর আওতায় প্রায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।
স্থানীয়রা জানান, ধসে পড়া অংশটি পানির স্বাভাবিক প্রবাহের একটি বাঁকের কাছে হওয়ায় নিচের মাটি সরে গিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ঢালাইয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন ধসের ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীর পাড় সংলগ্ন হওয়ায় এটি প্রাকৃতিক কারণেও ঘটতে পারে, আবার পরিকল্পনার ত্রুটিও থাকতে পারে।
এদিকে প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, আপাতত স্থানীয়দের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে