ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

রিং সাইন নিয়ে গুজব!

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত রিং সাইন টেক্সটাইলের বিদেশি পরিচালকেরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলন করা টাকা নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে শেয়ারবাজারে। তবে কোম্পানিটির দায়িত্বশীলদের দাবি এ গুঞ্জন সত্য নয়। তারা বলছেন, আইপিওর অর্থের টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই এবং কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাবেই ওই অর্থ রয়েছে।

জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি রিং সাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুং ওয়ে মিন এবং পরিচালক ও এমডির বোন সুং ওয়েন লি অ্যাঞ্জেলা এবং পরিচালক ও এমডির মামী হাসিয়ো লিউ ই চাই নিজ দেশ গেছেন। এমডির শাশুড়ি মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে তারা নিজ দেশে যান। আর এটাকেই একটি মহল রিং সাইনের পরিচালকেরা আইপিও ফান্ড নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে গুজব ছড়িয়েছে।

ব্যক্তিগত স্বার্থে কোন একটি মহল এই গুজব ছড়াতে পারে বলে মনে করছে রিং সাইন কর্তৃপক্ষ। তবে তারা আগামী সপ্তাহে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। তারা চীনা নববর্ষকে কেন্দ্র করে এখনও বিদেশে রয়েছেন।

গত ১০-১২ দিন ধরে রিং সাইনের আইপিও ফান্ড আত্মসাৎ নিয়ে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের গুজব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোম্পানিটির বিদেশি পরিচালকেরা আইপিওতে উত্তোলন করা ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ চলে গেছেন, তারা আর দেশে ফিরবেন না। এমন খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রিং সাইন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ রাখা, না রাখা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বিনিয়োগকারীরা।

রিং সাইনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির আইপিও ফান্ডের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকে ৪টি হিসাব রয়েছে। এরমধ্যে আইপিওতে বাংলাদেশিদের আবেদনের জন্য ১টি, বিদেশিদের মধ্যে ডলারের জন্য ১টি, ইউরোর জন্য ১টি এবং পাউন্ডের জন্য ১টি হিসাব।

ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী, রিং সাইনের আইপিও ফান্ডের ৪ হিসাবে ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ও আইপিওবাবদ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর ব্যাংকে আইপিও ফান্ড রাখায় সুদজনিত ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার আয় হয়েছে।
আইপিও হিসাবের ৪টির মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৩ নম্বর ব্যাংক হিসাবে ৮২ কোটি ১০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৪ নম্বর হিসাবে ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ডলার বা ১৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৫ নম্বর হিসাবে ৬ হাজার ৮৪২ পাউন্ড বা ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৬ নম্বর হিসাবে ২ হাজার ৭০৭ ইউরো বা ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা রয়েছে। অর্থাৎ রিং সাইনের আইপিও ব্যাংক হিসাবগুলোতে বর্তমানে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে।

রিং শাইন টেক্সটাইল শেয়ারবাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে, যা দিয়ে ঢাকা ব্যাংকের ২৮ কোটি টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২২ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। আইপিওতে ডিএসইর ফি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় করা হবে, যা ক্রয়ে সময়সীমা রয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

এ বিষয়ে কোম্পানি সচিব আশরাফ আলী বলেন, রিং সাইন একটি বৃহৎ এবং হাজার কোটি টাকার টার্নওভারের কোম্পানি। এ কোম্পানিতে ৩ জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ মোট ১২ জন পরিচালক রয়েছেন। যার ৯ জনই বিদেশি পরিচালক এবং সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশি পরিচালকেরা আইপিও ফান্ড নিয়ে পালিয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়েছে। ওই মহলের অপপ্রচারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা সঠিক তথ্য জানার জন্য কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

তিনি বলেন, একটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইপিও ফান্ড ব্যবহার নিয়ে রিং সাইনকে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। যা নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

রিং সাইন নিয়ে গুজব!

আপডেট টাইম : ১১:৪৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত রিং সাইন টেক্সটাইলের বিদেশি পরিচালকেরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলন করা টাকা নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে শেয়ারবাজারে। তবে কোম্পানিটির দায়িত্বশীলদের দাবি এ গুঞ্জন সত্য নয়। তারা বলছেন, আইপিওর অর্থের টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই এবং কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাবেই ওই অর্থ রয়েছে।

জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি রিং সাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুং ওয়ে মিন এবং পরিচালক ও এমডির বোন সুং ওয়েন লি অ্যাঞ্জেলা এবং পরিচালক ও এমডির মামী হাসিয়ো লিউ ই চাই নিজ দেশ গেছেন। এমডির শাশুড়ি মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে তারা নিজ দেশে যান। আর এটাকেই একটি মহল রিং সাইনের পরিচালকেরা আইপিও ফান্ড নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে গুজব ছড়িয়েছে।

ব্যক্তিগত স্বার্থে কোন একটি মহল এই গুজব ছড়াতে পারে বলে মনে করছে রিং সাইন কর্তৃপক্ষ। তবে তারা আগামী সপ্তাহে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। তারা চীনা নববর্ষকে কেন্দ্র করে এখনও বিদেশে রয়েছেন।

গত ১০-১২ দিন ধরে রিং সাইনের আইপিও ফান্ড আত্মসাৎ নিয়ে শেয়ারবাজারে নানা ধরনের গুজব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোম্পানিটির বিদেশি পরিচালকেরা আইপিওতে উত্তোলন করা ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ চলে গেছেন, তারা আর দেশে ফিরবেন না। এমন খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রিং সাইন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ রাখা, না রাখা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বিনিয়োগকারীরা।

রিং সাইনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির আইপিও ফান্ডের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকে ৪টি হিসাব রয়েছে। এরমধ্যে আইপিওতে বাংলাদেশিদের আবেদনের জন্য ১টি, বিদেশিদের মধ্যে ডলারের জন্য ১টি, ইউরোর জন্য ১টি এবং পাউন্ডের জন্য ১টি হিসাব।

ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী, রিং সাইনের আইপিও ফান্ডের ৪ হিসাবে ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ও আইপিওবাবদ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর ব্যাংকে আইপিও ফান্ড রাখায় সুদজনিত ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার আয় হয়েছে।
আইপিও হিসাবের ৪টির মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৩ নম্বর ব্যাংক হিসাবে ৮২ কোটি ১০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৪ নম্বর হিসাবে ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ডলার বা ১৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৫ নম্বর হিসাবে ৬ হাজার ৮৪২ পাউন্ড বা ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ১৫০১২০২৭৩৯৪২৬০০৬ নম্বর হিসাবে ২ হাজার ৭০৭ ইউরো বা ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা রয়েছে। অর্থাৎ রিং সাইনের আইপিও ব্যাংক হিসাবগুলোতে বর্তমানে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে।

রিং শাইন টেক্সটাইল শেয়ারবাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে, যা দিয়ে ঢাকা ব্যাংকের ২৮ কোটি টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২২ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। আইপিওতে ডিএসইর ফি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় করা হবে, যা ক্রয়ে সময়সীমা রয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

এ বিষয়ে কোম্পানি সচিব আশরাফ আলী বলেন, রিং সাইন একটি বৃহৎ এবং হাজার কোটি টাকার টার্নওভারের কোম্পানি। এ কোম্পানিতে ৩ জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ মোট ১২ জন পরিচালক রয়েছেন। যার ৯ জনই বিদেশি পরিচালক এবং সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশি পরিচালকেরা আইপিও ফান্ড নিয়ে পালিয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়েছে। ওই মহলের অপপ্রচারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা সঠিক তথ্য জানার জন্য কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

তিনি বলেন, একটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইপিও ফান্ড ব্যবহার নিয়ে রিং সাইনকে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। যা নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।


প্রিন্ট