ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত পাকিস্তান জাতিসংঘের ভাষণে মামদানিকে আক্রমণ করতে পারেন নেতানিয়াহু ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা মেধাপাচারের প্রবণতাকে উল্টো দিকে ঘোরাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঝিনাইদহে সার মজুতের দায়ে ডিলারের জরিমানা বরগুনায় ভারতীয় শাড়ি ও পাঞ্জাবি জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের বৈঠক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উধাও ১৩ বছরের শাহীন, ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে : পানিসম্পদ মন্ত্রী

ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করছেন মিশেল বলসোনারো

স্বামী গৃহবন্দি। এরই মধ্যে ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারো।

সিনেট নির্বাচনে সম্ভাব্য জয় তার জন্য ২০৩০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাব্য সিঁড়ি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪৪ বছর বয়সী মিশেল বলসোনারো শান্ত স্বভাবের ও গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ একজন নারী।
তার গাঢ় বাদামি চুল বব কাট।

অবশ্য ৪৫ বছর বয়সী সৎ ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের।

আগামী ৪ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কঠিন লড়াইয়ে রয়েছেন ফ্লাভিও।

সম্প্রতি ফ্লাভিও প্রকাশ্য বিরোধের সময় মিশেলের বিরুদ্ধে তার প্রতি অসম্মান ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ করেন।

পরে ফ্লাভিওর নির্বাচনী সমাবেশে আর দেখা যায়নি মিশেলকে।

ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মিশেল বলেন, তার ৭১ বছর বয়সী স্বামী ও সাবেক কট্টর ডানপন্থী নেতা জাইর বলসোনারোর দেখাশোনা করা প্রয়োজন।

অসুস্থতার কারণে মানবিক বিবেচনায় তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টার দায়ে তিনি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর পদে মিশেল বলসোনারোর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ তিনি খুব কমই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এর আগে, তিনি লিবারেল পার্টির (পিএল) নারী শাখার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামলে তিনি তার স্বামী ও তুলনামূলক কম আগ্রাসী, তবে লড়াকু স্বভাবের ছেলে ফ্লাভিওর চেয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলেন।

ব্রাসিলিয়ায় গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সময় এক বামপন্থী ব্যক্তির প্রতিবাদী স্লোগানের মুখে মিশেল হাসিমুখে বলেন, ‘আপনি লুলার সঙ্গে, আমি জাইর বলসোনারোর সঙ্গে। তবে পারস্পরিক সম্মান থাকলে সবকিছুই ঠিকঠাক চলে।’

ডানপন্থী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিওতে তাকে রাখতে রাজধানীতে ছুটে আসছেন।

মিশেলের ভাই ও উপদেষ্টা এডুয়ার্ডো তোরেস এএফপিকে বলেন, ‘এই সিনেট নির্বাচন কেবল শুরু। আজ মিশেলই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।’

পিএলের এক সূত্র এএফপিকে জানায়, সৎ ছেলের সঙ্গে বিরোধের পর মিশেলের অবস্থান ‘আরও শক্তিশালী’ হয়েছে।

মিশেল তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ্যে বলেননি। তবে চলতি বছরের নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

পরে তার স্বামী ছেলে ফ্লাভিওকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন।

ওই সূত্র বলেছে, ২০৩০ সাল ‘এখনো অনেক দূরের বিষয়’ হলেও মিশেল ‘ইতোমধ্যেই ডানপন্থী রাজনীতিতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন।’

ফেদেরাল ইউনিভার্সিটি অব পারানার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রাজিয়েলা তেস্তা বলেন, মিশেল বলসোনারো ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান মা ও গৃহিণীদের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র’ হিসেবে কাজ করছেন। পুরুষদের তুলনায় এই গোষ্ঠীকে ‘বলসোনারোবাদে আকৃষ্ট করা কঠিন।’

সৎ ছেলের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে বিস্তারিত একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করার পর, নিজ দলেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি।

তার বন্ধু ও সিনেটর দামারেস আলভেস এএফপিকে বলেন, এই সমালোচনার ‘মূল কারণ হলো, মিশেল পুরুষদের তৈরি করে দেওয়া ছোট বাক্সের মধ্যে থাকেননি।’

মিশেল বধিরদের জন্য সাংকেতিক ভাষার দোভাষী। ২০১৯ সালে তার স্বামীর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানেও তিনি এই দক্ষতাকে কাজে লাগান।

ফার্স্ট লেডি থাকার সময় মঞ্চে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। তবে এখনো স্বামীর তুলনায় প্রকাশ্যে কম কথা বলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে তিনি সতর্ক থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত পাকিস্তান

ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করছেন মিশেল বলসোনারো

আপডেট টাইম : ০৩:০০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বামী গৃহবন্দি। এরই মধ্যে ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারো।

সিনেট নির্বাচনে সম্ভাব্য জয় তার জন্য ২০৩০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাব্য সিঁড়ি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪৪ বছর বয়সী মিশেল বলসোনারো শান্ত স্বভাবের ও গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ একজন নারী।
তার গাঢ় বাদামি চুল বব কাট।

অবশ্য ৪৫ বছর বয়সী সৎ ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের।

আগামী ৪ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কঠিন লড়াইয়ে রয়েছেন ফ্লাভিও।

সম্প্রতি ফ্লাভিও প্রকাশ্য বিরোধের সময় মিশেলের বিরুদ্ধে তার প্রতি অসম্মান ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ করেন।

পরে ফ্লাভিওর নির্বাচনী সমাবেশে আর দেখা যায়নি মিশেলকে।

ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মিশেল বলেন, তার ৭১ বছর বয়সী স্বামী ও সাবেক কট্টর ডানপন্থী নেতা জাইর বলসোনারোর দেখাশোনা করা প্রয়োজন।

অসুস্থতার কারণে মানবিক বিবেচনায় তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টার দায়ে তিনি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর পদে মিশেল বলসোনারোর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ তিনি খুব কমই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এর আগে, তিনি লিবারেল পার্টির (পিএল) নারী শাখার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামলে তিনি তার স্বামী ও তুলনামূলক কম আগ্রাসী, তবে লড়াকু স্বভাবের ছেলে ফ্লাভিওর চেয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলেন।

ব্রাসিলিয়ায় গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সময় এক বামপন্থী ব্যক্তির প্রতিবাদী স্লোগানের মুখে মিশেল হাসিমুখে বলেন, ‘আপনি লুলার সঙ্গে, আমি জাইর বলসোনারোর সঙ্গে। তবে পারস্পরিক সম্মান থাকলে সবকিছুই ঠিকঠাক চলে।’

ডানপন্থী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিওতে তাকে রাখতে রাজধানীতে ছুটে আসছেন।

মিশেলের ভাই ও উপদেষ্টা এডুয়ার্ডো তোরেস এএফপিকে বলেন, ‘এই সিনেট নির্বাচন কেবল শুরু। আজ মিশেলই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।’

পিএলের এক সূত্র এএফপিকে জানায়, সৎ ছেলের সঙ্গে বিরোধের পর মিশেলের অবস্থান ‘আরও শক্তিশালী’ হয়েছে।

মিশেল তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ্যে বলেননি। তবে চলতি বছরের নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

পরে তার স্বামী ছেলে ফ্লাভিওকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন।

ওই সূত্র বলেছে, ২০৩০ সাল ‘এখনো অনেক দূরের বিষয়’ হলেও মিশেল ‘ইতোমধ্যেই ডানপন্থী রাজনীতিতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন।’

ফেদেরাল ইউনিভার্সিটি অব পারানার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রাজিয়েলা তেস্তা বলেন, মিশেল বলসোনারো ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান মা ও গৃহিণীদের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র’ হিসেবে কাজ করছেন। পুরুষদের তুলনায় এই গোষ্ঠীকে ‘বলসোনারোবাদে আকৃষ্ট করা কঠিন।’

সৎ ছেলের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে বিস্তারিত একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করার পর, নিজ দলেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি।

তার বন্ধু ও সিনেটর দামারেস আলভেস এএফপিকে বলেন, এই সমালোচনার ‘মূল কারণ হলো, মিশেল পুরুষদের তৈরি করে দেওয়া ছোট বাক্সের মধ্যে থাকেননি।’

মিশেল বধিরদের জন্য সাংকেতিক ভাষার দোভাষী। ২০১৯ সালে তার স্বামীর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানেও তিনি এই দক্ষতাকে কাজে লাগান।

ফার্স্ট লেডি থাকার সময় মঞ্চে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। তবে এখনো স্বামীর তুলনায় প্রকাশ্যে কম কথা বলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে তিনি সতর্ক থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।


প্রিন্ট