ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উলিপুরে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বি এন পি নেতার বিরুদ্ধে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন উপদেষ্টা এডভোকেট অপূর্ব বড়ুয়া চৌধুরী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে মতবিনিময় সভা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক ৩২৯ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে মতবিনিময় সভা ‎সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ক্লাস নিলেন অতিথি শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম রাতের আঁধারে সাংবাদিককে কুপিয়ে আহত করেন দুর্বৃত্তরা হাম উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৭৩

হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ করায় ৫ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় দেশটির পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

গত মাসে ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। এসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ এবং ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযুক্ত করেন।

পরে একজন ফেডারেল বিচারক ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ওই সময় সিএনএনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাঁচটি টেলিভিশন সম্প্রচারক কয়েক দিনের জন্য হোয়াইট হাউসের যৌথ সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এ ব্যবস্থায় একটি সম্প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিক সবার জন্য ভিডিও ধারণ করেন।

স্থান সংকটের কারণে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পালাক্রমে যেসব সাংবাদিক সফর করেন এবং অন্য সংবাদমাধ্যমের জন্য খবর সংগ্রহ করেন, তাদের নিয়ে গঠিত হয় এই যৌথ সংবাদ সংগ্রহ দল।

এ বিষয়ে অবগত ছয়জনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, শুক্রবার বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ দল-সংক্রান্ত যোগাযোগের নথি ও অন্যান্য উপকরণ চাওয়া হয়।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কভিংটন নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ—এই পাঁচটি নেটওয়ার্ক ‘হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানগুলোর সংবাদ সংগ্রহ বর্জন করে।’

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাণিজ্যিক প্রতিযোগীদের মধ্যে সম্মিলিতভাবে বর্জনের ঘটনা শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে।’

শেরম্যান আইন একটি প্রতিযোগিতা বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধবিষয়ক আইন।

কভিংটন বলেন, ‘এসব সংবাদমাধ্যম প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণ করতেই প্রতিযোগিতা বিভাগ তদন্ত করছে।’

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তার সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি বারবার সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসের সভাপতি ব্রুস ডি. ব্রাউন বলেন, বিচার বিভাগের এই তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হোয়াইট হাউসের দৈনন্দিন অনুষ্ঠানগুলো কীভাবে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচার করছে, সে-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের অজুহাত হিসেবেই এই তদন্তকে দেখা যাচ্ছে।’

ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম কীভাবে খবর সংগ্রহ ও প্রচার করবে, সে বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আইনের ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর আরেকটি, আরও নির্লজ্জ উদ্যোগ।’

বৃহস্পতিবার সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি বাড়ানোর দাবিতে ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলের একটি আদালতে হাজির হন।

তারা এ বিষয়ে একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন জানান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বি এন পি নেতার বিরুদ্ধে

হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ করায় ৫ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় দেশটির পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

গত মাসে ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। এসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ এবং ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযুক্ত করেন।

পরে একজন ফেডারেল বিচারক ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ওই সময় সিএনএনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাঁচটি টেলিভিশন সম্প্রচারক কয়েক দিনের জন্য হোয়াইট হাউসের যৌথ সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এ ব্যবস্থায় একটি সম্প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিক সবার জন্য ভিডিও ধারণ করেন।

স্থান সংকটের কারণে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পালাক্রমে যেসব সাংবাদিক সফর করেন এবং অন্য সংবাদমাধ্যমের জন্য খবর সংগ্রহ করেন, তাদের নিয়ে গঠিত হয় এই যৌথ সংবাদ সংগ্রহ দল।

এ বিষয়ে অবগত ছয়জনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, শুক্রবার বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ দল-সংক্রান্ত যোগাযোগের নথি ও অন্যান্য উপকরণ চাওয়া হয়।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কভিংটন নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ—এই পাঁচটি নেটওয়ার্ক ‘হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানগুলোর সংবাদ সংগ্রহ বর্জন করে।’

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাণিজ্যিক প্রতিযোগীদের মধ্যে সম্মিলিতভাবে বর্জনের ঘটনা শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে।’

শেরম্যান আইন একটি প্রতিযোগিতা বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধবিষয়ক আইন।

কভিংটন বলেন, ‘এসব সংবাদমাধ্যম প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণ করতেই প্রতিযোগিতা বিভাগ তদন্ত করছে।’

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তার সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি বারবার সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসের সভাপতি ব্রুস ডি. ব্রাউন বলেন, বিচার বিভাগের এই তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হোয়াইট হাউসের দৈনন্দিন অনুষ্ঠানগুলো কীভাবে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচার করছে, সে-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের অজুহাত হিসেবেই এই তদন্তকে দেখা যাচ্ছে।’

ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম কীভাবে খবর সংগ্রহ ও প্রচার করবে, সে বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আইনের ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর আরেকটি, আরও নির্লজ্জ উদ্যোগ।’

বৃহস্পতিবার সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি বাড়ানোর দাবিতে ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলের একটি আদালতে হাজির হন।

তারা এ বিষয়ে একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন জানান।


প্রিন্ট