রিমন হোসেন:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধে জড়াতে পারে ওয়াশিংটন—এমন আশঙ্কায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বাসিন্দারা। ওয়াশিংটনের অস্পষ্ট বার্তা এবং তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারির মধ্যে সংঘাত আবার শুরু হবে কি না, তা বুঝতে নানা সংকেত খুঁজছেন তারা।
সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৬ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক বলেন, পরিস্থিতির আবহে স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই তিনি সৌদি আরব ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কারণ, নির্বাচনের পর আবারও সংঘাত শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, সাধারণভাবে মানুষ এখন অনেক বেশি সতর্ক। কী ঘটতে যাচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বাড়ি ও কর্মস্থলে এখন ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন—যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে? স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে কি না, কিংবা বিমান চলাচল ও ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটবে কি না, তা নিয়ে আগাম ধারণা পেতে নানা তথ্য খুঁজছেন বাসিন্দারা।
চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানে হামলা চালাবে না। তবে নির্বাচনের পর হামলা আবার শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। আর এ অনিশ্চয়তাই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক হাসান আলহাসান সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব বার্তা প্রকৃত সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত, নাকি চাপ সৃষ্টির কৌশল—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়েছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও। ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশ নেওয়া এবং নতুন হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও ক্ষমতায় থাকছেন। আগামী সপ্তাহে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা জোরদার হওয়ার কথা। তবে নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর পক্ষে দ্রুত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হতে পারে।
এদিকে, স্পষ্ট তথ্যের অভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বাসিন্দা গুজবের ওপর নির্ভর করছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনা চলাচল ও সামরিক তৎপরতার খবর খুঁজছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা আসন্ন কি না, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তারা।
গত এক মাসে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারাও একের পর এক বিবৃতি দিয়ে নতুন অস্ত্রের বিশাল মজুত গড়ে তোলার দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে ভীতি তৈরির কৌশল হিসেবেই এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















