রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন:
অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মিরপুরের আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সৌদি আরবে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার বাসিন্দা মাসুদ। এ ঘটনায় নিজের পাসপোর্ট ফেরত পাওয়া এবং অর্থ উদ্ধারসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মাসুদের অভিযোগ, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় তিনি সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিদেশে যাওয়ার বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। পরে বিজ্ঞাপনে দেওয়া যোগাযোগের তথ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে আরিফ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
মাসুদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফ তাঁকে দ্রুত সৌদি আরবে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এ জন্য ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় তাঁর একটি দোকান রয়েছে বলেও দাবি করেন। পরে মাসুদ সেখানে গেলে তাঁকে একটি দোকানে বসানো হয়। দোকানটি আরিফের বলে পরিচয় দেওয়ায় এবং বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখানোয় তিনি আশ্বস্ত হন বলে জানান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আরিফের কথায় বিশ্বাস করে তিনি নিজের পাসপোর্ট ও নগদ ২০ হাজার টাকা জমা দেন। পরবর্তী সময়ে ভিসা দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ মাসুদের। বরং ভিসা দেওয়ার কথা বলে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন, এখন আর্থিক অনিশ্চয়তা
মাসুদ জানান, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সৌদি আরবে কাজ করে উপার্জন করবেন, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবেন এবং স্বজনদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবেন,এমন স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার আশায় টাকা দেওয়ার পর এখন তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
তাঁর অভিযোগ, বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় অনেক তরুণ বিভিন্ন ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেউ কেউ জমি বিক্রি করে, গবাদিপশু বিক্রি করে কিংবা ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাড় করেন। কিন্তু প্রতারণার শিকার হলে তাঁদের পক্ষে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার ঋণের বোঝা নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাসপোর্ট ফেরত ও অর্থ উদ্ধারের দাবি
মাসুদের অভিযোগ, তাঁর পাসপোর্ট এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি একদিকে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, অন্যদিকে পাসপোর্ট ফেরত না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার, নিজের পাসপোর্ট ও টাকা ফেরত পাওয়ার এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গণমাধ্যম কর্মীর বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা তরুণদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেকেই তাঁদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেন, এমনকি ঋণ নিয়ে অর্থের ব্যবস্থা করেন। পরে প্রতারণার শিকার হলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী মাসুদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাঁর অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে পাসপোর্ট ও অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক এবং প্রতারণার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে আরিফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ প্রতিবেদন তৈরির সময় অভিযুক্ত আরিফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভুক্তভোগী মাসুদের প্রত্যাশা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তিনি তাঁর পাসপোর্ট ও অর্থ ফেরত পাবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















