মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ১৪ জেলেকে আটক করেছে মৎস্য ও কোষ্টগার্ড। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৬০ কেজি জাটকা ইলিশ, ৪টি নৌকা এবং ৮০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে সকালে মতিরহাট এলাকা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মো. অরিফ হোসেন (৩০) মো. মাকসুদ হোসেন (২৯) কে ৭দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
অপরদিকে মুজুচৌধুরীহাট এলাকায় ১১ জেলেকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরআগে রায়পুরে মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তাসহ ৫ জন। বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেন জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. লুৎফুর রহমান।
রায়পুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজ হাসনাইন বলেন, ‘হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচ-ছয়টি নৌকা একত্র করে। তাদের নৌকায় আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৪০ জন লোক ছিল। তাদের অনেকের হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পার্শ্ববর্তী উপজেলার কোস্ট গার্ডের ৪টি স্পিডবোট যুক্ত হওয়ার পরও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।’
অভিযানে নদী থেকে বেশ কিছু অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার জালের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে। জেলেদের কাছ থেকে জব্দ জাটকা বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাসস’কে বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নৌকা, জাল ও জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
রায়পুরে মৎস্য কর্মকর্তাদের অভিযানে হামলার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তেঁতুলিয়া নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। কেউ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 























