ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনলাইন বিজ্ঞাপনে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন, আরিফের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সিনেমা হলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ভূইয়া গাঁতী ইউনিয়ন নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন হতে যাচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের আহ্বানে বার্নহামের সমর্থন ‎বিরামপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত আধুনগর বাজারকে আরও উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক করতে চাই -সভাপতি পদপ্রার্থী রাসেল ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,৯১৫ মা/ম/লা দিনাজপুরের হিলিতে নসিমনের ধাক্কায় ইজিবাইকে থাকা ৪ জন যাত্রী গুরুত্বর আ/হত নেত্রকোণায় ৪ এতিমসহ দাদা রুস্তম আলীর পাশে উপজেলা প্রশাসন ধারাবাহিক অভিযানে কুমিল্লায় কমেছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ; জনমনে স্বস্তি

যাদুকাটাকে বাঁচান, শ্রমিকদের জীবিকা ফেরান

আমির হোসাইন:
স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। একসময় শ্রমিকদের ব্যস্ততা, বারকি নৌকার আনাগোনা, পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার কোলাহলে মুখর থাকা বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডেও এখন আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। নদীকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়ায় শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাজারনির্ভর পেশাজীবীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যাদুকাটা নদী শুধু বালু-পাথর আহরণের একটি উৎস নয়; এটি তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শ্রমিক, বারকি নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী, দোকানদার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান।

জেলা প্রশাসনের তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে একসময় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক বারকি নৌকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নদীতে কাজ বন্ধ বা সীমিত হলে এর প্রভাব শুধু বালু-পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং নদীকেন্দ্রিক পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেই এর প্রভাব পড়ে।

বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডসহ নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকায় আগের তুলনায় কর্মচাঞ্চল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। নদীতে কাজের সুযোগ কমলে শ্রমিকদের আয় কমে যায়। এতে তাঁদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, নৌকা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যয় এবং বাজারের অন্যান্য ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

নদীতে কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের উপার্জনের ওপর অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। নিয়মিত কাজ না থাকলে তাঁদের সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আয় কমে গেলে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর আগেও যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আদালতের রায়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল বলে জানা যায়। তবে নদীকে ঘিরে উত্তোলন কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

যাদুকাটা নদীকে ঘিরে বালু-পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যক্রম, নদীভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনপদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অনুসরণ করে নদীর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নদী রক্ষার নামে সাধারণ শ্রমিকদের জীবিকার সংকট উপেক্ষা করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কর্মসংস্থানের অজুহাতে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রয়োজন আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হবে। আদালত ও সরকারি নির্দেশনা মেনে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে নদীকেন্দ্রিক শ্রমিক, নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নদীর পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধ, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যাদুকাটা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।

বাদাঘাট বাজারের বর্তমান নীরবতা কেবল বেচাকেনার মন্দার চিত্র নয়; এটি নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে উপকৃত হবেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—যাদুকাটাকে বাঁচিয়ে, আইন মেনে, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে মানুষের জীবিকা ফিরিয়ে আনা হোক। সচল হোক নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ফিরুক বাদাঘাট বাজারের কর্মচাঞ্চল্য।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপনে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন, আরিফের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

যাদুকাটাকে বাঁচান, শ্রমিকদের জীবিকা ফেরান

আপডেট টাইম : ০১:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আমির হোসাইন:
স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। একসময় শ্রমিকদের ব্যস্ততা, বারকি নৌকার আনাগোনা, পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার কোলাহলে মুখর থাকা বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডেও এখন আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। নদীকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়ায় শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাজারনির্ভর পেশাজীবীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যাদুকাটা নদী শুধু বালু-পাথর আহরণের একটি উৎস নয়; এটি তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শ্রমিক, বারকি নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী, দোকানদার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান।

জেলা প্রশাসনের তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে একসময় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক বারকি নৌকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নদীতে কাজ বন্ধ বা সীমিত হলে এর প্রভাব শুধু বালু-পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং নদীকেন্দ্রিক পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেই এর প্রভাব পড়ে।

বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডসহ নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকায় আগের তুলনায় কর্মচাঞ্চল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। নদীতে কাজের সুযোগ কমলে শ্রমিকদের আয় কমে যায়। এতে তাঁদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, নৌকা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যয় এবং বাজারের অন্যান্য ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

নদীতে কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের উপার্জনের ওপর অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। নিয়মিত কাজ না থাকলে তাঁদের সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আয় কমে গেলে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর আগেও যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আদালতের রায়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল বলে জানা যায়। তবে নদীকে ঘিরে উত্তোলন কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

যাদুকাটা নদীকে ঘিরে বালু-পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যক্রম, নদীভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনপদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অনুসরণ করে নদীর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নদী রক্ষার নামে সাধারণ শ্রমিকদের জীবিকার সংকট উপেক্ষা করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কর্মসংস্থানের অজুহাতে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রয়োজন আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হবে। আদালত ও সরকারি নির্দেশনা মেনে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে নদীকেন্দ্রিক শ্রমিক, নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নদীর পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধ, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যাদুকাটা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।

বাদাঘাট বাজারের বর্তমান নীরবতা কেবল বেচাকেনার মন্দার চিত্র নয়; এটি নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে উপকৃত হবেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—যাদুকাটাকে বাঁচিয়ে, আইন মেনে, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে মানুষের জীবিকা ফিরিয়ে আনা হোক। সচল হোক নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ফিরুক বাদাঘাট বাজারের কর্মচাঞ্চল্য।


প্রিন্ট